বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৪

কক্সবাজারে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে অপহরণের ৭ বছরের শিশুকে উদ্ধার ও একজন গ্রেফতার

মিজানুর রহমান:

রোহিঙ্গাকে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে চাকরি না দেয়ার নির্দেশ : পুলিশ সুপার

মানবিক কারণে রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ নুরকে মুরগীর ফার্মে চাকরি দেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ফরিদ। কিন্তু, সেই নুরেই ফরিদের ছেলে মিনহাজকে ট্রেন দেখানোর কথা বলে অপহরণ করে কক্সবাজার নিয়ে আসেন। তারপর বিভিন্ন মুঠোফোনের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন নুর।

রোববার (১০ ডিসেম্বর ) গভীর রাতে কক্সবাজারের একটি রিসোর্ট থেকে অপহৃত শিশু ও অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে সোমবার (১১ ডিসেম্বর ) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হল রোমে এক প্রেস ব্রিফিং করে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম।

অপহৃত আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ (৭) চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি বাগান পাড়া এলাকার মোহাম্মদ ফরিদুল আলমের ছেলে। গ্রেফতার মোহাম্মদ নুর উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-৯ এর বাসিন্দা শাহ আলমের ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানায়- গত ৮ ডিসেম্বর চুনতি এলাকার মুরগির ফার্ম থেকে সম্প্রতি চালু হওয়া ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেন দেখার কথা বলে শিশু মিনহাজকে নিয়ে আসেন নুর। তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরানোর পর মুঠোফোনে পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অন্যথায় শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। দুই ধাপে পরিবারটি ৪০ হাজার টাকা পাঠায়। তারপরও শিশুটিকে ছেড়ে দেয়নি অপহরনকারী। তারপর থেকে খোঁজ না পেয়ে থানায় অভিযোগ করে পরিবার। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মাঠে নামে কক্সবাজা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম।

ডিবি আরও জানায়- বিভিন্ন মাধ্যমে তদন্তের পর কক্সবাজার পৌর শহরের হোটেল-মোটেল জোনের প্রিন্স রিসোর্ট নামে একটি হোটেলের একটি কক্ষ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণকারী মোহাম্মদ নুরকেও গ্রেফতার করা হয়।

মিনহাজের বাবা মোহাম্মদ ফরিদুল বলেন, রোহিঙ্গা নুরের বাড়ি রামুতে বলেছিল, তার এনআইডি কার্ড আছে বলে চাকরি নেন, আমি পরে জানতে পারি সে রোহিঙ্গা তার পর তাকে সব টাকা দিয়ে বিদায় করে দি। সে আমার দোকানে ডের মাস চাকরি করেছিল। রোহিঙ্গাকে কিউ চাকরি দিবেন না আমার মত অপহরণের শিকার হতে হবে।

ভিকটিমের মামা বলেন, যে ছেলেটা ফার্মে কাজ করতো সে একজন রোহিঙ্গা জেনে ওকে চাকরি থেকে গত ৭ ডিসেম্বর তাকে টাকা দিয়ে বিদায় করে দেন। ৮ ডিসেম্বর সকালে বাড়ি এসে আমার বাগিনাকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছে। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি পর না পেয়ে থানায় অভিযোগ করি। পরে ঐ দিন রাতে মোবাইলে নুরের ফোন আসে সে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। আমরা দুই ধাপে ৪০ হাজার টাকা মোহাম্মদ নুরকে বিকাশের মধ্যমে প্রদান করি।

৪০ ঘন্টার অভিযানের কথা জানিয়ে পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন- রোহিঙ্গারা বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মবেশে চাকরি ও বসবাস শুরু করেছে। যার কারণে দ্রুত অপরাধ করে পালানোর সুযোগ থাকে। প্রায় ৪০ ঘন্টার অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যথায় প্রাণ ঝুকিতে ছিল। পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করছে। অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতি,ছুরি ঠেকাতে মাঠে রয়েছি বলে আশ্বস্ত করেন পুলিশ সুপার।

পুলিম সুপার আরও বলেন, রোহিঙ্গাকে কোণ দোকানে,ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও বাড়িতে কর্ম দিবেন না। যদি কিউ দে সাথে আমাদের পুলিশকে খবর দিবেন সাথে সাথে আমরা ব্যবস্থা নেব। গ্রেফতার নুরের ব্যাপারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় অন্যকোন চক্র রয়েছে কিনা সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ খবর