শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪

কক্সবাজারে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

সিসিএন অনলাইন ডেস্ক:

জাল ফেললেই ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। কক্সবাজার সমুদ্র উপকূল ও ফিশারি ঘাটে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। বিক্রিও হচ্ছে চড়াদামে। ট্রাক বোঝাই করে ইলিশ চলে যাচ্ছে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে। অধিকাংশ ইলিশের ওজন ৮০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত। ইলিশ ধরতে সাগরে অবস্থান করছে টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়াসহ জেলা শহরের ছোট–বড় প্রায় ছয় হাজার ট্রলার।

জেলেরা জানান, কক্সবাজার উপকূল থেকে ৮০-১০০ কিলোমিটার দূরে ( পশ্চিমে) গভীর বঙ্গোপসাগরে ইলিশের দেখা মিলছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে গভীর সাগর থেকে ঝাঁক বেঁধে ওই ইলিশ উপকূলের কাছাকাছি ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে চলে আসতে পারে। তখন বিপুলসংখ্যক ইলিশ ধরা পড়বে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, শহরের বাঁকখালী নদীর ফিশারি ঘাটে পাইকারি ইলিশ বিক্রির বাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ জেলার টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন উপকূলে দৈনিক প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন সামুদ্রিক মাছ আহরিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই ইলিশ মাছ।

জাল ফেললেই ধরা পড়ছে ইলিশ
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শহরের বাঁকখালী নদীর ফিশারি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, গভীর সাগর থেকে ইলিশ নিয়ে ফিরেছে ২৩টির বেশি ট্রলার। প্রতিটি ট্রলারে গড়ে পাঁচ শ থেকে তিন হাজার কেজি ইলিশ ধরা পড়েছে। ইলিশের সঙ্গে রূপচাঁদা, লাক্ষা, কোরাল, গুইজ্যা, চাপা, মাইট্যা, কামিলা, পোপা মাছও ধরা পড়েছে প্রচুর। ছোট ডিঙিনৌকায় ভরে ট্রলারের মাছ পাশের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এনে চলছে বেচাবিক্রি।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ২ হাজার ৬০০টি ইলিশ বিক্রি করে ২২ লাখ ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন এফবি আল্লাহর দান ট্রলারের জেলেরা। অধিকাংশ ইলিশের ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি। ট্রলারের মাঝি (সারেং) বশির আহমদ (৫৫) প্রথম আলোকে বলেন, বঙ্গোপসাগরের ৮০-৯০ কিলোমিটার পশ্চিমে পৌঁছে জাল ফেলে তাঁরা এই ইলিশ ধরতে পেরেছেন। গভীর সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া–আসায় তাঁদের সময় লেগেছে ছয় দিন। প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৮৫০ টাকা দামে। আরও ইলিশ ধরতে ট্রলার নিয়ে আজ রাতেই সাগরে ছুটবেন এই ট্রলারের ২১ জেলে।ৃ

খুরুশকুলের মনুপাড়ার বাসিন্দা নুরুল হুদার একটি ট্রলারে ধরা পড়েছে ৪ হাজার কেজি ইলিশ। ফিশারি ঘাটে সেই ইলিশ বিক্রি করে ৫২ লাখ টাকা পেয়েছেন তিনি। নুরুল হুদা বলেন, টানা তিন মাস তাঁর ট্রলারে ইলিশ ধরা পড়েনি। ট্রলারের ২২ জন জেলেসহ তিনি অর্থসংকটে ভুগছিলেন। ইলিশ বিক্রির টাকায় সেই সংকট দূর হবে।

শহরের নতুন বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা মোর্শেদ আলমের ট্রলারের মাঝি গিয়াস উদ্দিন বলেন, ইলিশের বিচরণ গভীর সাগরে। কিন্তু ছোট ট্রলারগুলো সেখানে গিয়ে ইলিশ ধরতে পারছে না।

মকবুল আহমদ ৩০ বছর ধরে সাগরে ইলিশ ধরে সংসার চালাচ্ছেন। সাগরে চার দিন অবস্থানের পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে ফিশারি ঘাটে পৌঁছান ১ হাজার ৩০০টি ইলিশ নিয়ে। মকবুল আহমদ (৫৬) বলেন, ছোট ট্রলার নিয়ে গভীর সাগরে যাওয়া সম্ভব হয় না। ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়।

দৈনিক সরবরাহ ৩০০ টন
বৃহস্পতিবার সকালে শহরের পাইকারি মাছ বিক্রির প্রধান বাজার ফিশারি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে (পাইকারি) ৮৫০ টাকায়। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬৫০-৭০০ টাকা, ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৫৫০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেলা ১২টা পর্যন্ত এই বাজার থেকে ৬ মেট্রিক টন ইলিশবোঝাই কয়েকটি ট্রলার ঢাকার পথে রওনা দিয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। বেলা তিনটা নাগাদ ইলিশবোঝাই আরও কয়েকটি ট্রাক রওনা দেবে।

ফিশারি ঘাট মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির উপদেষ্টা ও ইলিশ ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন বলেন, কক্সবাজার থেকে ট্রাকে প্রতি কেজি ইলিশ ঢাকার বাজারে পৌঁছাতে পরিবহন ও প্যাকেজিং খরচ যাচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। এ কারণে ঢাকায় প্রতি কেজি ইলিশের বিপরীতে ১০-২০ টাকার বেশি লাভ করা যাচ্ছে না। কক্সবাজারে আগামী কয়েক দিন ইলিশে সয়লাব হতে পারে। তখন ঢাকার বাজারেও ইলিশের দাম কমে আসবে।

কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে দৈনিক ৫০০ থেকে ২ হাজার ট্রলার মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরবে। তখন মাছের দাম অনেক কমে যাবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ১০ আগস্ট থেকে জেলেরা ট্রলার নিয়ে সাগরে নামতে শুরু করেছেন। কয়েক দিনের মধ্যে জেলার ছয় হাজার ট্রলার ইলিশ ধরতে সাগরে নেমে পড়বে। ইলিশ আহরণ বেড়ে গেলে ১ লাখ ৩০ হাজার জেলে-শ্রমিকের অভাবও দূর হবে।

সূত্র: প্রথম আলো

আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ খবর