বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২৪

তুমব্রু সীমান্তে সড়কে সিএনজি অটোরিক্সায় পড়লো বুলেট

কফিল উদ্দিন জয়, নাইক্ষ্যংছড়ি:

এবার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তে সড়কে গাড়িতে এসে পড়লো মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া বুলেট। এতে ওই সিএনজির সামনের গ্লাস ফেটে যায়। তবে অক্ষত আছেন সিএনজি অটোরিক্সার চালক।

শনিবার দুপুর ২ টা ৪০ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী থেকে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছিলো একটি সিএনজি অটোরিক্সা। অটোরিক্সাটি উত্তরপাড়া পৌঁছার পর সেখানে দাঁড় করিয়ে চালক আবু তাহের পান কিনতে দোকানে যান। এসময় হঠাৎ তার সিএনজি অটোরিক্সার সামনের গ্লাসে একটি বুলেট এসে পড়ে। ওই বুলেটের আঘাতে অটোরিক্সার সামনের গ্লাস ফেটে যায়।

স্থানীয় সিএনজি চালক আবু তাহেরের বাড়ি ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রুতে। তিনি জানান, পান কিনতে গিয়ে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই। কখন মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলিতে প্রাণ হারাতে হয় তার কোন গ্যারান্টি নেই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, সিএনজি অটোরিক্সাতে পড়া বুলেটটি তুমব্রু রাইট পিলার বরাবর অবস্থিত জান্তা বাহিনীর ক্যাম্প থেকে ছোঁড়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, শনিবার দুপুর আড়াইটায় তুমব্রু রাইট পিলার ক্যাম্প থেকে ফায়ারিং শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই ফায়ারিং অব্যাহত ছিলো। এরমধ্যে অন্তত ১০ টি মর্টারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। গুলিবিনিময় হয়েছে দুই শতাধিক।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, মিয়ানমারের চলমান সংঘাতে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের জান্তা বাহিনীর প্রায় সব ক্যাম্প দখল করে নিয়েছে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠি আরাকান আর্মি। সীমান্তের ওই এলাকায় এখন মাত্র তিনটি ক্যাম্প দখলে আছে জান্তা বাহিনীর। এগুলো হলো তুমব্রু ৩৪ পিলার রাইট ক্যাম্প, ঢেকিবুনিয়া ক্যাম্প এবং আরেকটির নাম জানা যায়নি। এই ক্যাম্পগুলো দখলে নেওয়ার জন্য হামলা শুরু করেছে আরাকান আর্মি।

স্থানীয়রা বলছেন, এই ক্যাম্পগুলোর অবস্থান সীমান্ত ঘেঁষা। ক্যাম্পগুলোর এপারের সীমান্তে প্রচুর জনবসতি রয়েছে। ক্যাম্পগুলো দখলের জন্য গোলাগুলি হলেই এপারের সীমান্তে চলে আসবে। হতাহতের ঘটনাও ঘটবে। যেটা ঘটেছে শনিবার দুপুরে।

আরও

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ খবর